'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় বর্তমান সময়ের সঙ্গহীন-বিপর্যস্ত মানবাত্মার; যুগযন্ত্রণার অভিব্যক্তি প্রকাশিত।যুদ্ধ-দাঙ্গা, মহামারি- দুর্ঘটনা- সন্ত্রাস ও হানাহানির পাকচক্রে পড়ে মানুষ আজ বিপর্যস্ত, কোণঠাসা। সন্তানদের মৃতদেহ মানুষকে বিড়ম্বিত করে। ধ্বস ও গিরিখাতের মতো বিপজ্জনক ভয়াবহতায় তার জীবনের স্বাভাবিক স্থিরতা নিত্য দোদুল্যমান।
আসলে বেশিরভাগ মানুষ নির্বিবাদে সবকিছু মেনে ও মানিয়ে নেয় । তারা ইতিহাস বিস্মৃত। তাই কবি মুখ বুজে সব মেনে না নিয়ে, ভাগ্যের হাতে ভবিষ্যতের ভার ন্যস্ত না করে মানুষকে সংঘবদ্ধ হয়ে ঘুরে দাঁড়াতে আহ্বান জানান। কবিতার শেষ দুই পঙক্তিতে এই কথাই উচ্চারণ করেন আরও মর্মস্পর্শী আন্তরিকতায়--
" আয় আরো হাতে হাত রেখে
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি ।"
'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় অস্থির সময়ের রাহুগ্রাসে বিপন্ন প্রাণির টিকে থাকার কথা ব্যক্ত হয়েছে। আমাদের চলমান জীবনের সার্বিক সংকটের কথা বোঝাতে গিয়ে কবি লিখেছেন আমাদের ডান পাশে ধ্বস ,আমাদের বামে গিরিখাত আমাদের মাথায় বোমারু বিমান।
আলোচ্য কবিতায় প্রতিটি স্তবকে মানুষের অস্তিত্বের সংকট প্রকাশিত । রাজনৈতিক আদর্শহীনতা, সাম্রাজ্যবাদ, ধর্মান্ধতার মতো অসুখ সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে ।এই অস্থির সময়ে মানুষের বিপন্নতার ছবি তুলে ধরেছেন কবি শঙ্খ ঘোষ । অস্তিত্বের সংকটে বিপন্ন মানুষ। কবি বলেছেন-
"আমাদের পথ নেই কোনো
আমাদের ঘর গেছে উড়ে
আমাদের শিশুদের শব
ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!"
এত হতাশার মাঝে বাঁচার একটাই পথ, তা হলো সংঘবদ্ধতা ।
এই ক্ষয়ে যাওয়া সমাজে সাধারণ মানুষের কোনো ইতিহাস নেই । যদিও- বা থেকে থাকে তবে তা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে পদানত হওয়ার ইতিহাস ।কিন্তু এতসব প্রতিকূল ও নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু মানুষ এখনও তাদের শুভবুদ্ধি বিবেকবোধ বিসর্জন দেননি । কবি তাঁদের ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানিয়েছেন । তাঁরা যদি আরো সংঘবদ্ধভাবে থাকেন , তবে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পরাজয় অবশ্যম্ভাবী।কবি শঙ্খ ঘোষ তাঁর কবিতার মাধ্যমে মানুষের কাছে এই বার্তায় পৌঁছে দিতে চেয়েছেন যে , প্রতিকূলতা ও অসহায়তা বঞ্চনা ও সংশয়ের মাঝেও সঙ্ঘবদ্ধ হতে হবে । কারণ একতা,সম্প্রীতি ও সম্মিলিত শক্তির কাছে উদ্ধত শক্তিকে নতজানু হতেই হয়- এটাই সভ্যতার ইতিহাস, এটাই বাস্তব।
What will i learn?
'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় অস্থির সময়ের রাহুগ্রাসে বিপন্ন প্রাণির টিকে থাকার কথা ব্যক্ত হয়েছে। আমাদের চলমান জীবনের সার্বিক সংকটের কথা বোঝাতে গিয়ে কবি লিখেছেন আমাদের ডান পাশে ধ্বস ,আমাদের বামে গিরিখাত আমাদের মাথায় বোমারু বিমান। আলোচ্য কবিতায় প্রতিটি স্তবকে মানুষের অস্তিত্বের সংকট প্রকাশিত । রাজনৈতিক আদর্শহীনতা, সাম্রাজ্যবাদ, ধর্মান্ধতার মতো অসুখ সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে ।এই অস্থির সময়ে মানুষের বিপন্নতার ছবি তুলে ধরেছেন কবি শঙ্খ ঘোষ । অস্তিত্বের সংকটে বিপন্ন মানুষ।
Requirements
আলোচ্য অংশটি কবি শঙ্খ ঘোষ রচিত 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতার অন্তর্গত। এখানে 'পথ' বলতে অবক্ষয়ের যুগে আদর্শহীনতা ও অনিশ্চয়তার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে নতুন ভাবে বাঁচার উপায় বা দিশাকে বোঝানো হয়েছে । বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ,দাঙ্গা , রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা মানুষকে দিশেহারা করে তুলেছে। মানুষ আজ সন্ত্রাস আর বঞ্চনার শিকার। জীবনের প্রতি পদে প্রতিবন্ধকতা তার অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলেছে ।তাই কবির আশঙ্কা এই অন্ধকারের আবর্ত থেকে বেরিয়ে এসে মানুষের সুস্থ জীবনযাপনের আর বুঝি কোনো উপায় নেই।